পোস্টগুলি

মে, ২০১৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হাদিসের আলোকে শবে বরাতের প্রমান (পর্ব ৪) :-

ছবি
★★★ দশম হাদীছ( اسناده ضعيف ) উছমান ইবনু আবিল আস নবী করীম (সঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ যখন শা’বান মাসের পনের তারিখ রাত আগমণ করে তখন জনৈক আহবানকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে আহবান করতে থাকেন যে, আছো কি কোন ক্ষমার ভিখারী তাকে আমি ক্ষমা করে দিবো? আছো কি কোন যাচনাকারী যাকে আমি দান করবো? অতঃপর যে কেউ চায় আল্লাহ তাআলা তাকে তাই দান করেন। কিন্তু ব্যভিচারিনী এবং মুশরিক ছাড়া। উক্ত হাদীছটি ইমাম বায়হাকী তাঁর শুয়াবুল ঈমানে সংকলন করেছেন। ░▒▓█► হাদীসটির মান : উক্ত হাদীছের সনদ সম্পর্কে পর্যালোচনাঃ ১। উক্ত হাদীছটি ইমাম বাইহাকী আলী ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু বিশর থেকে বর্ণনা করেন। যার সম্পর্কে খতীব আল বাগদাদী বলেনঃ “ তিনি সত্যবাদী, নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। ” ( তারীখে বাগদাদঃ খ-১২, পৃ-৯৯ ) ২। আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনু আমর আর রাযযায (মৃঃ ৩৩৯ হিঃ) যার সম্পর্কে হাকেম বলেনঃ “ তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ছিলেন। ” ( সিয়ারু আলামিন নুবালাঃ খ-১৫, পৃ-৩৮৬ ) খতীব আল বাগদাদী বলেনঃ “ তিনি নির্ভরযোগ্য ও আস্থাযোগ্য ছিলেন। ” ( তারীখে বাগদাদঃ খ-৩, পৃ-১৩২ ) ৩। মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আর...

হাদিসের আলোকে শবে বরাতের প্রমান (পর্ব ৩) :-

ছবি
★★★ সপ্তম হাদীছ( صحيح بشواهده ) হযরত আবু হুরায়রা (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন, শাবানের পনের তারিখ রাতে আল্লাহ তাআলা মুশরিক এবং বিদ্বেষী ছাড়া সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। উক্ত হাদীসটিঃ ১। ইমাম হাইছামী তাঁর মাজমাউয যাওয়ায়েদে ২। বাযযার তাঁর মুসনাদে সংকলন করেছেন। ░▒▓█► হাদীসটির মান : প্রথম মন্তব্যঃ এই হাদীছ সম্পর্কে হাফিয হাইছামী বলেনঃ “ বাযযার তাঁর মুসনাদে এই হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে হিশাম ইবনু আবদির রহমান নামক একজন রাবী আছেন। তাঁর পরিচয় আমি জানি না। এছাড়া অন্যান্য সকল রাবী ছিক্বাহ। ” ( মাজমাউয যাওয়ায়েদঃ খ-৮, পৃ-৬৫ ) দ্বিতীয় মন্তব্যঃ মাজমাউয যাওয়াদের মুহাক্কিক উক্ত হাদীছে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেনঃ “ এই হাদীছটিকে হিশামের সমর্থন যোগায় মত কেউ বর্ণনা করেন নি এবং হিশাম থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে গালিব হাদীছটি নিয়েছেন। ইবনু গালিব একজন নির্ভরশীল রাবী। ” তৃতীয় মন্তব্যঃ হাদীছ পর্যালোচক শায়খ শুয়াইব আল আরনাউত্ব এ হাদীছের ব্যাপারে মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বলের টীকায় আব্দুল্লাহ বিন আমরের সূত্রে হাদীছটিকে উদ্ধৃত করার পর বলেনঃ حديث صحيح بشواهده অর্থাৎ অন্যান্য হাদীছের পৃষ্ঠপ...

হাদিসের আলোকে শবে বরাতের প্রমান (পর্ব ২) :-

ছবি
★★★ ৪র্থ হাদীছ (حسن صحيح لغيره) হযরত আয়শা (রঃ) বলেন, এক রাতে আমি হুযুর (সঃ) কে বিছানাতে পেলাম না। তাই তাঁকে খোজ করার উদ্দেশ্যে বের হলাম। তখন দেখতে পেলাম তিনি জান্নাতুন বাকীতে আছেন। আমাকে দেখে তিনি বলে উঠেন, তুমি কি এই আশংকা করছো যে, আল্লাহ এবং তাঁর রসূল (সঃ) তোমার সাথে অবিচার করবে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধারণা করেছিলাম আপনি অন্য কোন স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ নিয়েছেন। হুযুর (সঃ) বললেন, শা’বানের পনের তারিখ রাতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে তাশরীফ নেন এবং বনু কালব গোত্রের ভেড়া-বকরির পশমগুলোর চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে তিনি মাফ করে দেন। উক্ত হাদীসটিঃ ১। ইমাম তিরমিযী তাঁর তিরমিযী শরীফে ২। ইমাম ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে ৩। ইমাম বায়হাকী তাঁর শুয়াবুল ঈমানে ৪। ইমাম ইবনে আবী শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফে ৫। ইমাম বগবী তাঁর শরহেস সুন্নাহয় ৬। ইবনে আহমদ তাঁর মুসনাদে সংকলন করেছেন। ░▒▓█► হাদীসটির মান : হাদীছটির সনদের অবস্থানঃ প্রথম উক্তিঃ ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীছটির সনদ পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ “ হযরত আয়শা (রঃ) এর হাদীছটি আমরা শুধুমাত্র হাজ্জাজ এর সূত্রে পাই। আর আমি ইমাম বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে,...

হাদিসের আলোকে শবে বরাতের প্রমান (পর্ব ১) :-

ছবি
এখানে সর্বমোট ৩ টি হাদিস সনদ সহ মান সহ বিস্তারিত বর্ননা করা হল : ★★★ ০১. হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) এর হাদীস- 5665 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُعَافَى الْعَابِدُ بِصَيْدَا، وَابْنُ قُتَيْبَةَ وَغَيْرُهُ، قَالُوا: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ الْأَزْرَقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خُلَيْدٍ عُتْبَةُ بْنُ حَمَّادٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، وَابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَطْلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ» অর্থ : হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে]আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। ★ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫, ★ মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪, ★ মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২, ★ তাবারা...

বিশ্ব-বিখ্যাত মুফাসসিরগনের তফসীর থেকে শবে বরাতের প্রমান (পর্ব ২) :

ছবি
কেউ কেউ এভাবে মতদ্বয়ের সমাধান করেছেন যে, শবে বরাতে কুরআন শরীফ লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আকাশে অবতীর্ণ হয়েছে। এর বর্ণনা সূরা দুখানে দেয়া হয়েছে। অতঃপর সেখান থেকে জিব্রাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে তা ক্বদরের রাতে রসূল (সঃ) এর উপর অবতীর্ণ হওয়া আরম্ভ হয়ে ২৩ বছরে তার সমাপ্তি ঘটেছে। ১। উল্লেখ্য এখানে ইবনে আব্বাসের যে বর্ণনার দিকে হযরত (রহঃ) ইঙ্গিত করেছেন তা তাফসীরে মাযহারীতে এভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। “ আল্লাহ তাআলা সকল প্রজ্ঞাসম্পন্ন বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শবে বরাতে এবং তা সংশ্লিষ্টদের নিকট সোপর্দ করেন ক্বদরের রাতে। ” ( দেখুন তাফসীরে মাযহারীঃ খ – ৮, পৃ – ৩৬৮ ) ২। এ মীমাংসার পক্ষে বিবরণ পাওয়া যায় আল্লামা আবুস সাউদ এর সুপ্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ تفسير ابى السعود তাফসীরে আবি সাউদ এর মধ্যে। তিনি বলেনঃ “ মোবারক রাত থেকে উদ্দেশ্য হলো, শবে ক্বদর। কেউ কেউ বলেছেনঃ এর উদ্দেশ্য হল, শবে বরাত। এ রাতে কুরআনের অবতরণ আরম্ভ হয় অর্থাৎ এ রাত্রে পরিপূর্ণ কুরআন দুনিয়ার আসমানে লৌহে মাহফুজ থেকে একসঙ্গে অবতীর্ণ হয় এবং হযরত জিবরাইল (আঃ) তা তাখতির মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। “ প্রতিটি প্রজ্ঞাসম্পন্ন বিষয়ের ফায়সালা হয় ” (...

বিশ্ব-বিখ্যাত মুফাসসিরগনের তফসীর থেকে শবে বরাতের প্রমান (পর্ব ১) :

ছবি
আয়াতগুলো প্রথমে অর্থসহ পেশ করা হচ্ছে। ★ আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- انا انزلنه فى ليلة مبركة انا كنا منذرين. فيها يفرق كل امر حكيم. امرا من عندنا انا كنا مرسلين. অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে (শবে বরাতে) কুরআন শরীফ নাযিল করেছি অর্থাৎ নাযিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমিই ভয় প্রদর্শনকারী। উক্ত রাত্রিতে আমার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজ গুলো ফায়সালা করা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সূরা দুখান-৩, ৪, ৫) ★ আয়াতে উল্লেখিত ليلة مباركة লাইলাতুম মুবারাকাহ (বরকতময় রাত) শব্দের ব্যাখ্যা বা তাফসীরকে কেন্দ্র করেই “ কুরআনের দৃষ্টিতে লাইলাতুল বারাআত ” শীর্ষক আলোচনার সূত্রপাত। ★ লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাতকে বুঝানো হয়েছে তার যথার্থ প্রমাণ সূরা দু’খানের ৪ নম্বর আয়াত শরীফ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ। এই আয়াত শরীফ এর يُفْرَقُ শব্দের অর্থ ফায়সালা করা। প্রায় সমস্ত তাফসীরে সকল মুফাসসিরীনে কিরামগণ يُفْرَقُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের তাফসীর করেছেন ইয়ুকতাবু অর্থাৎ লেখা হয়, ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়, ইয়ুতাজাও ওয়াযূ অর্থাৎ বন্টন বা নির্ধারণ করা হয়, ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বা...

শবে বরাতের ফজীলত সম্পর্কিত হাদিস যারা যারা বর্ননা করেছেন :

ছবি
এখানে শুধু বর্ননা কারী গনে নাম ও কিতাবের নাম এক সাথে দেয়া হল।  অন্য পর্ব গুলোতে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। শবে বরাত ও কোরআনঃ পবিত্র কোরআনের ২৫ তম পারা ও ৪৪ নং সূরা “ দুখানের ” শুরুতে যে পাঁচটি আয়াত রয়েছে সে আয়াতগুলোই মূলত শবে বরাত ও পবিত্র কোরআন - এ বিষয়ক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ১। তাফসীরে কবীর ২। তাফসীরে রুহুল মাআনী ৩। তাফসীরে রুহুল বায়ান ৪। তাফসীরে কুরতুবী ৫। তাফসীরে তবরী ৬। তাফসীরে বগবী ৭। তাফসীরে খাযেন ৮। তাফসীরে ইবনে কাসির ইত্যাদি শবে বরাত ও সাহাবায়ে কেরাম (রঃ) শবে বরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীছসমূহের বর্ণনাকারিদের মধ্যে অনেক বড় বড় ( এক ডজনের মত ) সাহাবাও রয়েছেন। যাদের কয়েকজনের পবিত্র নাম নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ ক) হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রঃ) খ) হযরত আলী (রঃ) গ) হযরত আয়েশা (রঃ) ঘ) হযরত আবু হুরায়রা (রঃ) ঙ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আ’মর (রঃ) চ) হযরত আবু মুসা আশআরী (রঃ) ছ) হযরত আউফ ইবনু মালিক (রঃ) জ) হযরত মুআয ইবনু জাবাল (রঃ) ঝ) হযরত আবু ছালাবাহ আল খুসানী (রঃ) ঞ) কাছীর ইবনে মুররা আল হাজরমী (রঃ) শবে বরাত ও তাবেয়ীঃ শামের বিশিষ্ট তাবেয়ী যেম...

বিশ্ব-বিখ্যাত ইমামগণের মতে শবে বারাত বা লাইলাতুল বারা'ত :-

ছবি
★ ইমাম শাফেয়ী রহ বলেন- و بلغنا أنه كان يقال إن الرعاء يستجاب في خمس في ليال في ليلة جمعة و ليلة الأضحى و ليلة الفطر و اول ليلة من رجب و ليلة النصف من شعبان আর আমাদের নিকট এরূপ বর্ণনা এসেছে যে, নিশ্চই পাঁচটি রাতে বান্দার দুআ’র জবাব দেয়া হয় অর্থাৎ দু’আ কবুল করা হয়, জুমার রাত, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহার রাত, রজবের প্রথম রাত এবং শাবানের মধ্য রাত (শবে বরাত)। [আল উম্ম, ১:২৩১/২:৪৮৫, ইবনে রজব লাতায়িফুল মা’আরিফ ১:১৩৭] ★ খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহঃ বসরায় তার গভর্নরকে লিখেন- عليك بأربع ليال من السنة فإن الله يفرغ فيهن الرحمة إفراغا أول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة الفطر وليلة الأضحى বছরে চার রাতের ব্যাপারে তোমার সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা ঐ রাতগুলোতে তার রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তা হল, রজবের প্রথম রাত, শাবানের মধ্য রাত এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত। [ইবনে রজব লাতায়িফুল মা’আরিফ ১:১৩৭] ‪ ★ ওহাবী‬ ও সালাফী ইমাম ইবনে তাইয়িমাহ তাঁর স্বীয় ফতোয়া গ্রন্থে লিখেছেন- إذَا صَلَّى الْإِنْسَانُ لَيْلَةَ النِّصْفِ وَحْدَهُ أَوْ فِي جَمَاعَةٍ خَاصَّةٍ كَمَا كَانَ يَفْعَلُ ...