পোস্টগুলি

ফতোয়া প্রদানে সতর্কতা অবলম্বনঃ

ইসলামে ফেকাহ শাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ আমল ফেকাহশাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত। মানুষের জন্ম থেকে কবরে কাফন সহ যাবতীয় আমল ফিকহ শাস্ত্রের উপর নির্ভর করে। ঈবাদত ছাড়াও লেন-দেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি এক কথায় একজন মুসলমানের জীবনের সর্বক্ষেত্রে ফিকহশাস্ত্রের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়গুলো এমন যে, এ ব্যাপারে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন ব্যতীত কোন মতামত দেয়া নিতান্তই বোকামী। আর যাঁরা এ বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন, তাঁদেরক্ষেত্রেও দেখা যায়, এ বিষয়ে কোন মতামত দিতে গেলে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। রাসূল কারিম সল্লাল্লহু 'আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, من قال علي ما لم أقل فليتبوأ بيتاً في جهنم ، ومن أُفتى بغير علم كان إثمه على من أفتاه ، ومن أشار على أخيه بأمر يعلم الرشد في غيره فقد خانه “যে ব্যক্তি এমন কথা বলল, যা আমি বলিনি, তবে সে জাহান্নামে নিজের জন্য একটি ঘর তৈরি করল। আর যাকে ইলম ব্যতীত ফতোয়া প্রদান করা হল, এর গোনাহ ফতোয়া প্রদান কারীর উপর বর্তাবে। আর যে ব্যক্তি তার ভাইকে এমন বিষয়ে পরামর্শ ...

টয়লেটে কুলুখ নেয়ার পর পানি ব্যবহার করাঃ

লিখেছেন : কলম সৈনিক আহলে হাদীস সর্দার মুজাফফর বিন মুহসিন নামক উদ্ভট মুফতী বলেছেন, পানি থাকা অবস্থায় কুলুখ নেয়া শরিয়ত সম্মত নয়। কুলুখ নেয়ার পর পানি ব্যবহার সম্পর্কিত যে হাদীস বর্ণনা করা হয়, তা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। বেচারা আরো বলেন, “সুতরাং সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত উক্ত মিথ্যা প্রথাকে অবশ্যই উচ্ছেদ করতে হবে। পানি থাকা অবস্থায় যেন কোন স্থানে কুলুখের স্তুপ সৃষ্টি না হয়”। দেখুন, জাল হাদীসের কবলে রাসুলুল্লাহ (সা) এর সালাত/৩৯ জবাবঃ কুলুখ ব্যবহার করে পানি নেয়া সংক্রান্ত সহীহ হাদীসঃ ___________________________ হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তীরা শক্ত পায়খানা করতো। আর তোমরা কর নরম ভাবে। সুতরাং তোমরা পাথর (কুলুখ) ব্যবহার করে তারপর পানি ব্যবহার কর। রেফারেন্সঃ আস সুনানুল কুবরা, মুসান্নাফ ইবনি আবী শাইবাহ। ইবনু হাজার আসকালানী (রাহ) এর পর্যালোচনাঃ _________________________ ইমাম ইবনু হাজা আসকালানী (রাহ) বলেন, এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনু আবী শাইবাহ এবং ইমাম বাইহাকী হাসান সনদে। অর্থাৎ হাদীসটি সহীহ। রেফারেন্সঃ আদ দিরায়াহ-১/৯৭ হাদীসটির পূর্ণ সনদ উল্লেখ করেছ...

রাসুলগণের সুন্নাত চারটি। লজ্জা করা, আতর ব্যবহার করা, মিসওয়াক করা, এবং বিবাহ করাঃ

নামধারী আহলে হাদীস সর্দার মুজাফফর বিন মুহসিন বলেছেন, নীচের হাদীসটি নাকি দুর্বল!! দেখুন, জাল হাদীসের কবলে রাসুলুল্লাহ (সা) এর সালাত/ ৩৪ হাদীসঃ হযরত আবু আইয়ূব (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রাসুলগণের সুন্নাত চারটি। লজ্জা করা, আতর ব্যবহার করা, মিসওয়াক করা, এবং বিবাহ করা। আরবী এবারতঃ حدثنا سفيان بن وكيع حدثنا حفص بن غياث عن الحجاج عن مكحول عن أبي الشمال عن أبي أيوب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أربع من سنن المرسلين الحياء والتعطر والسواك والنكاح হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম তিরমিযী (রাহ) তার জামি’তে। বর্ণনা শেষে তিনি বলেছেন, হাদিসটি হাসান (সহীহ)। তিনি বলেছেন, حديث حسن غريب রেফারেন্সঃ জামি তিরমিযি- ৩/৩৮২ ফাতহুল গাফফার -৩/১৩৯৬ কেউ কেউ এ হাদীসকে দুর্বল বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মুবারকপুরী তার জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, وقد عرفت أنه مجهول إلا أن يقال : إن الترمذي عرفه ولم يكن عنده مجهولا ، أو يقال إنه حسنه لشواهده অর্থাৎ, আমি এ হাদিসের একজন রাবী সম্পর্কে জানিনা। তিনি মাজহুল (অপরিচিত)। তবে ইমাম তিরমিযি (রাহ) হয়ত তাকে চিনতেন এবং এ রাবী তাঁর নিকট অপরিচিত ছিল...

মুযাফফর বিন মুহসিনঃ জালিয়াতির এক জীবন্ত প্রমাণ

লিখেছেন : কলম সৈনিক ____________________________ লেখাটি কপি / শেয়ার করুন, যাতে ‘জাল হাদীসের কবলে রাসুল (সাঁ) এর সালাত’ নামক বইটি পড়ে যারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তাদের নিকট এই বার্তাটি পৌঁছে যায়। প্রথমে যা জেনে নিলে ভাল হয়ঃ ________________ যয়ীফ হাদীস বলা হয় ঐ হাদীসকে যার সনদের মধ্যে হাদিস কবুল হবার শর্তগুলোর মধ্যে কোন একটি শর্ত অনুপস্থিত থাকে। কিন্তু জাল হাদিস বলা হয় ঐ হাদিসকে যার সনদের মধ্যে মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারী থাকে। মোট কথা, জাল এবং যয়ীফ হাদীসের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যয়ীফ হাদীসকে জাল হাদিস বলা হয় না, আবার জাল হাদীসকে ও যয়ীফ বা দুর্বল হাদিস বলা হয়না। এ পার্থক্য যে করতে পারেনা, আবার হাদীস নিয়ে লম্বা লম্বা কথা বলে, সে হচ্ছে এ যামানার এক জঘন্য দাজ্জাল যে নাকি মুসলমানকে বিভ্রান্ত করার টিকাদারী নিয়েছে। মুযাফফর বিন মুহসিনঃ লা-মাযহাবী, নামধারী আহলে হাদিসদের জনপ্রিয় শায়েখ। উনি আমাদের সালাত যে হচ্ছেনা তা প্রমাণ করার জন্য একটি বই লিখেছে। নাম দিয়েছে, ‘জাল হাদীসের কবলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত’। বইটির কভার দেখলে আপনি এ নামটি বাংলাতে এভাবেই দেখবেন। কিন্তু প...

এত বড় জানাযা আর কোন দিন দেখি নিঃ আল্লাহু আকবার

→ শহীদ মমতাজ ক্বাদেরী (রহঃ) এর জানাযায় লক্ষ কোটি নবীপ্রেমিক সুন্নী মুসলিম জনতার জোয়ার উঠেছে। নবীর শানে কুটুক্তি কয়ায় তিনি একজনকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। তার এই ফাসিঁর বিরোদ্ধে পাকিস্তানের সুন্নী মুসলিম জনতার বিক্ষোভ সমাবেশ। ↓ আল্লাহ পাক ওনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন।-- আমিন ৩ মিনিটের এই ভিডিওটি দেখুনঃ https://goo.gl/UJbYVA

ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত দোয়াঃ(হাদিসের আলোকে)

ছবি

শাফেয়ী মাযহাবে ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত দোয়ার ফতোয়াঃ

ছবি
শাফেয়ী মাযহাবের বিশ্ববিখ্যাত ইমাম, হাফিযুল হাদিস আন- নাওয়াওয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ইমাম এবং মুক্তাদীর দোয়া করা সর্বসম্মতিক্রমে মুসতাহাব। তিনি একাকী নামাজ আদায় কারী পুরুষ, নারী, মুসাফির এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও দোয়া করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। তিন আরো বলেন, মুসতাহাব তারীকা হচ্ছে, ফরজ নামাজ শেষে ইমাম সাহেব মুক্তাদীর দিকে মুখ করে বসবেন এবং দোয়া করবেন। রেফারেন্সঃ আল-মাজমু’ খন্ড- ৩ পেইজ নাম্বার- ৪৬৫,৪৬৯ এবার কি বিশ্ব বিখ্যাত এই হাফিযুল হাদীসকে বেদ'আতী বলবেন? কারণ, তিনি যে ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত দোয়া মুসতাহাব ফতোয়া দিয়ে দিলেন! _______________ বিঃ দ্রঃ ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেবের মুখ ফেরানো, কিংবা কোন কোন সালাতের পর বা সকল সালাতের পর এভাবে মুখ ফিরিয়ে সম্মিলিত দোয়া -- এনিয়ে ইমামগণের মধ্যে এখতেলাফ রয়েছে। কিন্তু সকলেই মুল/ আসল অর্থাৎ ফরজ সালাতের পর সম্মিলিত দোয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। মুস্তাহাব বলেছেন। ______________ লেখাটি কপি শেয়ার করুন। (কলম সৈনিক)